
চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে ডলফিনের ‘অভয়াশ্রম’ হিসেবেই ধরা হয়। অথচ এই অভয়াশ্রমই অনিরাপদ হয়ে উঠেছে ডলফিনের জন্য। পাঁচ বছর ধরে এই নদীতে প্রাণ হারাচ্ছে মিঠাপানির অতি বিপন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীটি।
চলতি বছর এ পর্যন্ত ছয়টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। বেশির ভাগের শরীরে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। হালদায় একের পর এক মৃত ডলফিন উদ্ধারের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
নৌযানের প্রপেলার, বালু–পাথর পরিবহনের ইঞ্জিনচালিত নৌকা–বাল্কহেড ও বালু তোলার যন্ত্র ড্রেজারের আঘাত, দূষণ, লবণাক্ততা এবং জালে আটকে ডলফিন মারা যাচ্ছে বলে জানালেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯টি ডলফিন মারা যায় বলে হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি সূত্র জানা গেছে।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, হালদা ডলফিনের জন্য অভয়াশ্রম। অথচ সেখানেই অর্ধেক ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে আঘাতের কারণে। এ ছাড়া জালে আটকেও মারা গেছে কয়েকটি। ডলফিনের এই প্রজাতি খুবই বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এটি রক্ষা করতে প্রশাসন, জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একযোগে কাজ করতে হবে।
হালদা রিভার রিসার্স ল্যাবরেটরি সূত্র জানায়, মারা যাওয়া ডলফিনগুলোর মধ্যে ২০টি আঘাতজনিত সমস্যায় এবং তিনটি জালে আটকা পড়েছিল। এ ছাড়া তিনটিকে হত্যা করা হয়। বাকি ১৩টি পচে গিয়েছিল বলে মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করা যায়নি। হালদায় বর্তমানে ১৪৭টি ডলফিন রয়েছে।
সর্বশেষ গত ২১ জুলাই হালদা নদীর রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকা থেকে মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়। ডলফিনটির পেটে ধারালো কিছুর আঘাত শনাক্ত করা হয়েছে। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট। ওজন প্রায় দেড় মণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হালদার দুই তীরের প্রতিরোধ বাঁধের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চার বছর ধরে চলা এই প্রকল্পটির বালুভর্তি বাল্কহেড চলে হালদার ওপর দিয়ে। বাল্কহেডের আঘাতজনিত সমস্যায়ও ডলফিনের মৃত্যুর নজির রয়েছে।
0 Comments